স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন নিষিদ্ধ অ্যাপের মাধ্যমে বায়োমেট্রিকহীন অবৈধ সিম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ইলেকট্রনিক লেনদেন (ই-ট্রানজেকশন) ও ডিজিটাল অপরাধ সংঘটনকারী চক্রের চারজন মূল ‘সুপার এজেন্ট’-কে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে যশোর শহরের উপশহর ও ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই তরুণ ও দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাগুরার শালিখা উপজেলার গোয়ালখালী গ্রামের তাপস কুমার (২৪), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের তুষার শিকদার (২৪), যশোর কোতোয়ালি থানার তেঘরিয়া এলাকার মোছাঃ সাদিয়া ইসলাম সুইটি (২৩) এবং একই থানার রামকৃষ্ণপুর এলাকার ইসরাত জাহান তৃপ্তি (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপশহরের বাবলাতলা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তাপস কুমার ও তুষার শিকদারকে আটক করে।
পরবর্তীতে তাঁদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও অঘোষিত বিভিন্ন ভার্চুয়াল বেটিং পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন— Win 베টিং (win bet), Mobcash এবং 1xBet প্রভৃতির মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চালিয়ে আসছিলেন।
আটককৃতদের দেওয়া চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ দলটি ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ মোহাম্মদ আলী মন্ডলের বাসা নং-৮২১ এর ৩য় তলার একটি গোপন ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখানে রুমের ভেতর থেকে অনলাইন বেটিং পরিচালনার সময় চক্রের সহযোগী সাদিয়া ইসলাম সুইটি ও ইসরাত জাহান তৃপ্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে তাঁদের হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০টি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন, ডিজিটাল ই-ট্রানজেকশনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৫৫টি অবৈধ সিম কার্ড এবং জুয়ার লেনদেনের নগদ ৫৭,০০০ টাকা জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আজই (৭ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের পেছনের অর্থদাতা ও মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


