স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুরে এক তরুণ-তরুণীর প্রেমঘটিত জটিলতা নিরসনে আয়োজিত সামাজিক সালিশ বৈঠক মুহূর্তেই সহিংস রূপ ধারণ করেছে। কথা-কাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা বাজার মোড়ে এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
বিজ্ঞাপন
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ফজলুর রহমান (৪৫), আশরাফুল (৩৫) ও শামসুল হককে (৩৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ফজলুর রহমানের শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে চলে আসা একটি প্রেমসংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ইত্যা বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠক চলাকালে সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত হতে না পেরে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা তীব্র তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ৩ দিন ধরে জমে থাকা উত্তেজনা প্রকাশ্য রূপ নেয় এবং দু’পক্ষই লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডা শুরু হওয়ার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপক্ষে শাহজাহান, আবু তাহের, তরিকুল, আজহারুল ও সাদেকের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন এবং অপরপক্ষে অন্তত ২৫-৩০ জন সদস্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো ইত্যা বাজার এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। এ ঘটনায় ইত্যা গ্রামসহ পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাইদ জানান, “কয়েক দিন আগের একটি প্রেমঘটিত সমস্যা সমাধানের বিচারকার্য চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থেকে মারামারির সূচনা হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই কম-বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।


