স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পৈতৃক জমি জালিয়াতি করে দখল, হত্যাচেষ্টা এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে যশোরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে কোটি টাকা প্রতারণা, ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের মোঃ নাজমুল আকরাম রকি।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বারবাকপুর মৌজায় তাঁদের পৈতৃক জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার মুখ অনুযায়ী ভাগ করে ভোগদখল করা হচ্ছিল। কিন্তু তাঁর পিতার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে চাচা মোজাম্মেল হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে হেবা দলিলে রাস্তার সম্পূর্ণ মুখ নিজেদের নামে লিখে নেন। পরবর্তীতে পিতার মৃত্যুর পর পুরো জমির রাস্তার অংশ দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এই জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় গত ২১ জুলাই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় জিয়াউর রহমান জিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে (মামলা নং-১৬/১৫৪)।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তাঁকে ও পুলিশ প্রশাসনকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আসামিপক্ষ সম্প্রতি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে। মামলার আসামিরা এলাকায় নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন একাধিক প্রতারণা মামলার আসামি এবং বিদেশে লোক পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। অপর আসামি জিয়াউর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া অভিযুক্তদের স্বজন তৎকালীন এক ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
অভিযুক্তদের নানাবিধ অপকর্মের বিস্ফোরক তথ্য:
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল আকরাম রকি অভিযোগ করেন, গত ১৬ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনকারীরা প্রকৃতপক্ষে এলাকা জুড়ে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।
-
মানব পাচার ও প্রতারণা: মামলার অন্যতম আসামি তাঁর চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন একজন চিহ্নিত আদম ব্যাপারী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। বিদেশে লোক পাঠানোর নামে বহু মানুষকে নিঃস্ব করার একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
-
মাদক ব্যবসা: অপর আসামি জিয়াউর রহমান জিয়া একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী, যার কারণে এলাকার বহু পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
-
ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ: অভিযুক্তদের আত্মীয় সালমা খাতুন (তৎকালীন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঝিকরগাছা শাখা ব্যবস্থাপক) পরস্পর যোগসাজশে মোজাম্মেল হোসেন, নাসিমা বেগম ও মোহনার নামে বেআইনিভাবে লাখ লাখ টাকার ঋণ দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।
-
আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ: মোজাম্মেল গং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পৈতৃক জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে।
সংবাদ সম্মেলনে রকি আরও বলেন, ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ তদন্ত করে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ায় অভিযুক্তরা সংক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে উন্মোচন করা এবং মিথ্যা অভিযোগকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিক সমাজের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ছবি সংগৃহীত।


