রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাটফাজিলপুর বাজারে সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং বিক্রির সময় কেনাকাটার রসিদ না দেওয়ার অভিযোগে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার মোল্লাকে অনিয়মের অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবার্শীষ অধিকারীর নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। বাজারে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা ও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
প্রশাসন জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত সারের বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ এবং কৃষকদের কাছে বিক্রির রসিদ হস্তান্তর না করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। প্রান্তিক কৃষকেরা যেন ন্যায্য মূল্যে সার কিনতে পারেন এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে বাজারে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
অভিযান পরিচালনকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবার্শীষ অধিকারী বলেন, “কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা লোটার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। সার ও কীটনাশক নিয়ে যেকোনো ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, বাড়তি দামে ইউরিয়া ও অন্যান্য রাসায়নিক সার বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে খাদ্য বা সার মজুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগেও শৈলকুপার বিভিন্ন বাজারে অনিয়ম ও বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের এমন ঝটিকা ও কঠোর অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা। তারা জানান, প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি চালু থাকলে তারা সঠিক মূল্যে সার পাবেন, যা তাদের ফসল উৎপাদন ব্যয় কমাতে ও ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ঘটনা প্রসঙ্গে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, “সরকারি নিয়ম ভেঙে সারের কারসাজি, রশিদ না দেওয়া কিংবা অসাধু উপায়ে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স চিরতরে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” ছবি সংগৃহীত।


