পায়রা বন্দরে কোটি টাকার মালামালসহ ৭ ট্রাক আটক

পায়রা বন্দরে কোটি টাকার মালামালসহ ৭ ট্রাক আটক

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমতি ছাড়া বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় সাতটি মালামাল বোঝাই ট্রাক আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের হাসনাপাড়া এলাকা থেকে এই ট্রাকগুলো আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আটককৃত ট্রাকগুলোতে ব্যবহারযোগ্য ট্রলি, জেনারেটর ও ওয়েট মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভর্তি ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ মালামাল নাটোরে নেওয়ার জন্য ট্রাকে লোড করা হচ্ছিল। তবে মালামাল পরিবহনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতিপত্র বা বৈধ কাগজপত্র ড্রাইভাররা দেখাতে না পারায় ঘটনার পেছনে বড় ধরনের রহস্য ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, গত ১২ আগস্ট থেকে আবাসন প্রকল্প এলাকায় গ্যাস কাটার দিয়ে অন্তত ১২টি বড় ট্রলি কেটে ছোট ছোট খণ্ডে খণ্ডিত করা হচ্ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে সেসব কাটা সরঞ্জাম ও মালামাল একের পর এক ট্রাকে লোড করা হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শুক্রবার রাতে পায়রা বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুলিশি সহায়তায় মালামালসহ ট্রাকগুলো হেফাজতে নেয়।

আটক হওয়া এক ট্রাকচালক জানান, স্থানীয় সাব্বির ও সুমন নামের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে নাটোরে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে তাঁরা এসেছিলেন। মালামাল লোড শেষ করে রওনা হওয়ার মুহূর্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ তাঁদের গতিরোধ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আটককৃত সব মালামাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’র। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পের কাজ স্থগিত রেখে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

মালামাল সরাতে নিয়োজিত ই-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লজিস্টিক কর্মকর্তা মো. রুপম জানান, আটক মালামাল তাঁদের কোম্পানিরই। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি পাওয়ার আগেই মালামাল ট্রাকে তুলে সরানোর বিষয়টি তাঁদের একটি বড় প্রশাসনিক ভুল বা ‘মিসটেক’ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির পায়রা বন্দর কো-অর্ডিনেটর মো. হাসিব দাবি করেন, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ট্রলিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে দেরি হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পায়রা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার মো. ইরফানুল আল রিফাত জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশে মালামাল বোঝাই সাতটি ট্রাক জব্দ রাখা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান ও কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে অনুমতি ছাড়া এভাবে সরকারি প্রকল্প এলাকা থেকে মালামাল নেওয়া সন্দেহজনক। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের স্বপক্ষে যথাযথ আইনি কাগজপত্র ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দেখাতে পারলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *