বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পক্ষিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি বশির মৃধার একটি বিতর্কিত ও অনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চরম তোলপাড় ও নেতিবাচক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেতে থাকে। অভিযুক্ত বশির মৃধা কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রহম আলী মৃধার ছেলে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বশির মৃধার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালে একই এলাকার এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গৃহবধূর স্বামীর দায়েরকৃত উক্ত মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক ভিডিওটিতে বশির মৃধাকে ভিডিও কলে এক নারীর সাথে আপত্তিকর ও অসামাজিক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। তবে ভিডিও কলের অপরপ্রান্তে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মন্তব্যের ঘরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত বশির মৃধা ব্লেকমেইল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে বলেন, “গতকাল এক ব্যক্তি ফোন করে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে সেটি কিসের ভিডিও বা কোথায় ধারণ করা, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং ভিডিওটি আমি দেখিনি।”
ঘটনার বিষয়ে পক্ষিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খাদিজা আক্তার শারমিন জানান, “বসির মৃধার একটি অসামাজিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথা আমরা শুনেছি। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে জানান, “শিক্ষার মতো পবিত্র আমেজে কিংবা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে এ ধরণের নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে জড়িত কোনো ব্যক্তির থাকার সুযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ছবি সংগৃহীত।


