স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী পাইপ বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির লিফলেট উদ্ধার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবন ঘিরে ফেলেন সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও পুলিশ সদস্যরা। টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেখানে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, মঙ্গলবার দিনের বেলায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে ৫টি বিশেষ কায়দায় তৈরি পাইপ বোমাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে সিটিটিসি। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুরের ওই বাড়িতে ব্লক রেইড দেওয়া হয়। তল্লাশি চালিয়ে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আরও ৯টি শক্তিশালী পাইপ বোমা, জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বোমাগুলোর মূল উপাদান ছিল হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। রাত ১২টার দিকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট একটি বোমার নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কার্যক্রমের অংশ।
ভবনের মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামের এক ব্যক্তি গত ২ আগস্ট স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করার কথা বলে নিচতলার ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। পেশায় নিজেকে গাড়িচালক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি যে ভেতরে গোপনে বিস্ফোরক মজুত করছিলেন, তা বাড়ির মালিক বা প্রতিবেশীরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে ওই ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটককৃত ব্যক্তিকে নিয়ে রাতেই অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।


