কালীগঞ্জে ষাঁড়ের দামে বিক্রি হচ্ছে বকনা-গাইয়ের মাংস!

কালীগঞ্জে ষাঁড়ের দামে বিক্রি হচ্ছে বকনা-গাইয়ের মাংস!

মো. মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজারে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গাই ও বকনা গরুর মাংস অবাধে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু অসাধু মাংস ব্যবসায়ী কম মূল্যে অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ গরু কিনে গোপন স্থানে বা বাড়িতে জবাই করে তা ষাঁড়ের মাংস দাবি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। এতে করে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে চরম জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এদিকে মাংসের বাজারে তদারকির দায়িত্বে থাকা পৌরসভার কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রিতে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি কালীগঞ্জ শহরের বড় বাজার ব্রিজঘাট, নলডাঙ্গা রোড, আড়পাড়া নতুন বাজার ও বৈশাখী মোড়সহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই গাই বা বকনা গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দোকানে কী ধরনের গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে নেমপ্লেট টাঙানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো দোকানেই তা দেখা যায়নি।

ব্রিজঘাট এলাকার এক মাংস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, ষাঁড় গরুর আকাশচুম্বী দামের কারণে তা থেকে লাভ কম হয়। এ কারণে শহরের অনেক ব্যবসায়ীই তুলনামূলক কম দামি গাই বা বকনা গরুর দিকে ঝুঁকেছেন।

পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জবাইয়ের আগে পশু পরীক্ষা করেছেন কি না জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা জানান, কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ সকালে ঝুলন্ত মাংস পরীক্ষার বদলে কেবল বিকালের দিকে এসে টোলের টাকা আদায় করে নিয়ে যান।

বাজারে বাজার করতে আসা কালীগঞ্জ কাঁচাপাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত গাই-বকনা গরু ষাঁড় বলে বিক্রি করা স্পষ্ট প্রতারণা। ভালো মাংস না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষ এগুলো কিনছে।” তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, মাংস বিক্রির তদারকির দায়িত্ব আব্দুস সামাদের হলেও তিনি কেন দোকানগুলোতে সঠিক নিয়মে পরিদর্শন করছেন না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি নেমপ্লেট ঝুলিয়ে মাংস বিক্রি না করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পৌর কসাইখানা না থাকার কারণে পশু জবাইয়ের আগে সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার খবর অস্বীকার করে বলেন, কসাইখানা না থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন বাজারে গিয়ে রশিদের মাধ্যমে নিয়ম মেনে পৌরসভার টোল আদায় করেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ কঠোর বার্তা দিয়ে জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তাঁরা অবহিত হয়েছেন। অতি দ্রুত বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ডেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

তারাগঞ্জে অচেতন চালক উদ্ধার : ইজিবাইক নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী চক্র

যশোরে নাশকতার মামলায় বাঘারপাড়ার ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

যশোরে ডাবল হ্যাটট্রিক মামলার আসামি ‘চোর মানিক’ গ্রেপ্তার

ঝিকরগাছায় পুবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন’: ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ

কৃতি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ

শৈলকুপায় ভোক্তা অধিকারের বাজার তদারকি : ২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান কালীগঞ্জের নবাগত ওসি

ওয়ার্ড ও বাথরুম ঘুরে দেখলেন, হাসপাতালে দুপুরের খাবার খেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকতা ও ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানে আসিফ ইকবাল কাজলকে জাতীয় সম্মাননা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *