স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ার শিবগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৪৯৪০ (চার হাজার নয়শত চল্লিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুটি মোবাইল ফোনসহ মোঃ জামাল (২৬) নামে এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন ভরিয়া পাকুরতলা এলাকাস্থ ‘এসএস ফুড জোন’-এর সামনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোঃ জামাল খুলনা জেলার সোনাভাঙ্গা থানার হাফিজ নগর এলাকার মৃত নূরের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর আসে যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক হয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান পাচার হচ্ছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাঃ জিললুর রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে বিশেষ আভিযানিক দল ওই স্থানে অবস্থান নেয়। ভরিয়া পাকুরতলা এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা জামালের দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে দুটি খাকি খামের ভেতর বিশেষভাবে স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো মোট ২৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। যার একটি খামের ১৫টি প্যাকেটে ৩০০০০ পিস এবং অপর খামের ১০টি প্যাকেটে ১৯৪০ পিসসহ মোট ৪৯৪০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে জব্দকৃত ইয়াবার মোট ওজন পাওয়া যায় ৪৯৪ গ্রাম। এ সময় মাদক কেনাবেচা ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত ১টি অ্যান্ড্রেয়েড (Redmi 15c) এবং ১টি বাটন ফোন (SYMPHONY A30) জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জামাল জানায়, সে পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী হলেও দীর্ঘ দিন ধরে কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ ইয়াবা পাচার ও কেনাবেচায় জড়িত। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বেরও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ সামসুল আলম বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ও ২৬(১) ধারায় শিবগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, এই বড় চালানের নেপথ্যে ও সরবরাহের সাথে অন্য আর কে কে জড়িত রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তে অন্যান্য সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ছবি সংগৃহীত।

