রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
গাছভরা সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে বড় বড় অ্যাভোকাডো। কোনোটি নাশপাতির মতো দেখতে, আবার কোনোটি গোলাকার। বাগানে দাঁড়িয়ে একের পর এক ফল দেখিয়ে এমনই সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা ও শিক্ষক হারুনুর রশিদ মুসা। প্রচলিত ধান বা অন্যান্য ফসলের বাইরে বিদেশি এই ফল চাষ করে তিনি এখন আর্থিকভাবে দারুণ স্বাবলম্বী হওয়ার পথে।
জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে কাগমারীর কৃতি সন্তান মাস্টার হারুন অর রশিদ মুসা এই বিদেশি ফলটির চাষ শুরু করেন। শখ থেকে শুরু করা এই উদ্যোগ মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই তাঁকে মোটা আয়ের মুখ দেখায় এবং তাঁর পরিবারে আনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য। ১ বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ দিয়ে চাষাবাদ শুরু করলেও বর্তমানে তিনি ৬ বিঘা জমিতে এর আবাদ করছেন এবং বিঘা প্রতি দুই-তিন লাখ টাকার অ্যাভোকাডো বিক্রি করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। তাঁর দাবি, চলতি মৌসুমের শুরুতেই অ্যাভোকাডো বিক্রি করে ইতিমধ্যে তাঁর ২০ লাখ টাকার আয় হয়েছে এবং এখনো বিক্রি চলমান রয়েছে।
মুসার এই ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখে কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝেও বিদেশি এই ফল চাষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে অ্যাভোকাডোর চাষ হচ্ছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডু গ্রামের আব্দুল্লাহসহ অনেক নতুন কৃষক এখন এই লাভজনক চাষে যুক্ত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
উদ্যোক্তারা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকেরা আরও বড় পরিসরে অ্যাভোকাডোসহ উচ্চমূল্যের ফল চাষে এগিয়ে আসতে পারবেন। এতে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি তরুণরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন। মুসার মতে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি পরামর্শ এবং সঠিক বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন জানান, উপজেলাজুড়ে অ্যাভোকাডো চাষের পরিধি ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে এবং কৃষকরা এতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই বিদেশি ফলের চাষ আরও সম্প্রসারিত করতে কৃষকদের উপযুক্ত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই উচ্চমূল্যের ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে কোটচাঁদপুরের কৃষিতে এটি একটি নতুন ও লাভজনক বিকল্প খাত হয়ে উঠবে। ছবি সংগৃহীত।

