স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
নিজের জীবনের পরোয়া না করে একের পর এক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধ জগতে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন যশোর ডিবি পুলিশের তরুণ ও সাহসী অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কামরুজ্জামান। কখনো চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে বাগে আনা, কখনো চলন্ত প্রাইভেটকার ধাওয়া করে মাদক কারবারীদের হাতেনাতে পরাস্ত করা, আবার কখনো গোপন ডেরায় হানা দিয়ে অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ আসামিদের গ্রেফতার—তাঁর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বে বারবার ভেস্তে যাচ্ছে অপরাধীদের ছক।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বহুল আলোচিত ‘ডেভিড ইমন’কে গ্রেফতারের পেছনে এসআই কামরুজ্জামানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু তা-ই নয়, গত মঙ্গলবার নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে একটি প্রাইভেটকারসহ দুই জন কুখ্যাত মাদক কারবারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে নিজের সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) রাত ১১টার দিকে তাঁরই নেতৃত্বে যশোর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় ফের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি তিনতলা ভবনে ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে বেনাপোল এলাকার চার মামলার আসামি ও দুর্ধর্ষ দুর্বৃত্ত উজ্জ্বলকে (৩৫) আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে উজ্জ্বলের আস্তানা থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির এক সেট ভুয়া পোশাক, দুটি সচল ওয়াকিটকি সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, দুটি ধারালো চাপাতি এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল জানান, “আটককৃত উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা রয়েছে। বিজিবির ভুয়া পরিচয় ও অস্ত্র-ওয়াকিটকি ব্যবহার করে সে কী ধরনের অপকর্মের পরিকল্পনা করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে, ডিবির তরুণ কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামানের এই একের পর এক নির্ভীক ও সফল অভিযান যশোর জেলা পুলিশ তথা পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে অনন্য অবদান রাখছে। ছবি সংগৃহীত।


