স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার তমিজদ্দিন সড়কে শাশুড়ি এবং দুই নিষ্পাপ শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজনকে ঘরের ভেতর নির্মম ও নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার ঘটনার প্রধান পলাতক আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম হাওলাদার (৩৮) অবশেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) খাঁচায় গ্রেফতার হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৯ মে (২০২৬) গভীর রাতে বা ভোরের কোনো এক সময়ে খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানাধীন তমিজদ্দিন সড়কস্থ দারুল আমান মহল্লায় এই লোমহর্ষক ও হাড়হিম করা ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি ঘটেছিল। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান ঘাতক রফিকুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুদূর বরিশালে গিয়ে ছদ্মনামে আত্মগোপন করে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল র্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) এবং র্যাব-৮ (সদর কোম্পানি)-এর একটি চৌকস ও যৌথ আভিযানিক দল বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন কাশিপুর এলাকায় এক ঝটিকা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত নিষ্ঠুর ঘাতক মোঃ রফিকুল ইসলাম হাওলাদার মূলত খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে নির্মমভাবে খুনের খবরটি দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে পুরো খুলনা অঞ্চলসহ দেশজুড়ে সর্বস্তরের জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
র্যাব সদর দপ্তর ও দায়েরকৃত মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজদ্দিন সড়কের দারুল আমান মহল্লায় অবস্থিত জনৈক শরিফুল ইসলামের আধা-পাকা ভাড়া বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। গত ২৯ মে রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে ঘাতক মোঃ রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওই বাসার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাঁর আপন শাশুড়ি ভিকটিম বেবী বেগম (৬০) এবং তাঁর স্ত্রীর প্রথম পক্ষের দুই সন্তান শামীম বেপারী (১৪) ও শিশু মুস্তাকিন বেপারী (৪)-কে একে একে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা টিপে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঠান্ডা মাথায় পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরদিন নিহত দুই নিষ্পাপ শিশু সন্তানের জন্মদাতা পিতা মোঃ মাসুম বেপারী (৪৫) বাদী হয়ে ঘাতক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে একমাত্র প্রধান আসামি করে খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই বর্বরোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় র্যাব ফোর্সেস।
র্যাব-৬-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সোনাডাঙ্গার এই তিন খুনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক রফিকুলের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বরিশাল মহানগরের কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত রফিকুল ইসলাম হাওলাদার পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর শাশুড়ি ও দুই সৎ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত কুখ্যাত আসামী রফিক হাওলাদারকে খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


