স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতে কৌশলে এক যুবককে ডেকে এনে অবরুদ্ধ করে অনৈতিক ছবির ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন—যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার অধিবাসী চক্রের মূলহোতা রাজা এবং তাঁর দুই নারী সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও ঘটনার বিবরনী থেকে জানা যায়, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার এক তরুণ সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন পোস্ট করেন। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারক রাজা ওই তরুণের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং মালামাল ক্রয়ের কথা বলে তাকে যশোরে ডেকে পাঠান। সরল বিশ্বাসে ওই তরুণ ল্যাপটপসহ যশোরে পৌঁছালে রাজাসহ তাঁর দলের লোকেরা তাকে একটি নির্জন ঘরে জিম্মি করে ফেলে।
পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই নারী সহযোগী বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সাথে আপত্তিকর ভঙ্গিমায় ছবি ধারণ করা হয়। এসব ছবি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সাথে থাকা মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর স্বজনদের ইমো ও ফোন কলে ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে শেষে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাড়িতে ফিরে ভুক্তভোগী বিষয়টি স্বজনদের জানালে পরিবারের সহায়তায় তিনি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত আভিযোগ পেশ করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে শনিবার রাতে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে রাজাকে এবং পরবর্তীতে তাঁর সাথে থাকা দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেন।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, ভুক্তভোগী তরুণের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রসেস চলছে। আটককৃত চক্রটি ইতিপূর্বেও নারীদের ব্যবহার করে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে অসংখ্য মানুষের অর্থ ও জিনিসপত্র লুটে নিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নামে পূর্বেও একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে এবং এ চক্রের সাথে অন্য কেউ যুক্ত আছে কিনা তাও পুলিশি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

