স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখার আয়োজনে শহীদ কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণার স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় যশোরে সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কমরেড তসলিম-উর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ।
বিজ্ঞাপন
স্মরণসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নাজিম উদ্দিন শহীদ, কমরেড দিপুর ছোট ভাই ও বিপ্লবী স্মৃতি রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল বাশার সাইফউদ্দৌলা, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ এবং লেখক মফিজুর রহমান রুন্নু।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রক্ষীবাহিনীর হাতে অনেক বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা ও নেতাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। শহীদ কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণারা শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের কাছে নতজানু রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও শ্রমজীবী মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
স্মরণসভায় শহীদ কমরেড দিপুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনন্য অবদানের নানা দিক তুলে ধরা হয়। ১৯৪৭ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম নেওয়া কমরেড দিপু ছাত্রজীবন থেকেই আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, এম এম কলেজের ছাত্র অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সদর মহকুমা সভাপতি ও জেলা সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নড়াইল, যশোরের শালিখা ও খাজুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন এবং শালিখা থানা আক্রমণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
বক্তারা স্মরণ করেন যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কমরেড দিপু শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। কিন্তু ১৯৭৪ সালের ৪ নভেম্বর কোটচাঁদপুরে দলের একটি গোপন সভায় রক্ষীবাহিনীর অতর্কিত হামলায় কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণাসহ আরও কয়েকজন কমরেড নির্মমভাবে নিহত হন। স্মরণসভার শেষ পর্যায়ে শহীদ এই নেতাদের আদর্শ ও অসম্পূর্ণ সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

