স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দেশের নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিকল্পিত রূপ দিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’। এরই মধ্যে পরিচালিত প্রাথমিক লিস্টিং ও ম্যাপিং কার্যক্রমে সারা দেশের ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযানের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এই শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হবে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিবিএস) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, বর্তমান অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেস তৈরি করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত নৌযান শুমারি বিষয়ক এক অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। শুমারির মূল লক্ষ্য ও বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আবুল হোসেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই শুমারির আওতায় সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সকল প্রকার ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ, স্পিডবোটসহ বিভিন্ন ধরনের জলযানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অবহিতকরণ সভায় বক্তারা জানান, একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে নৌনিরাপত্তা জোরদার করা, নৌদুর্ঘটনা হ্রাস করা, নাবিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া, নৌযান ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ অনেকটাই সহজ হবে। একই সঙ্গে যেকোনো আকস্মিক নৌদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নৌযান, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের দ্রুত শনাক্ত করে সরকারি অনুদান বা সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মোহাম্মদ আসিফ উদ্দীন, নোয়াপাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রনজিত কুমার সেন, বাংলাদেশ স্কাউটস যশোরের সম্পাদক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, নুরজাহান শ্রমিক দলের নোয়াপাড়া শাখার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইকবাল সরদার, পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং নোয়াপাড়া নদীবন্দর (অভয়নগর)-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন, পরিসংখ্যান ব্যুরো, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।


