স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক আইন অলঙ্ঘনকারীদের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এবার মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও নম্বর প্লেট সংযোজনের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের সকল মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এই সিদ্ধান্ত মাঠে প্রয়োগে দেখা দিয়েছে নানা কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা। বর্তমানে দেশের রাস্তায় চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত জায়গা বা ফ্রেম নেই। ফলে নতুন করে প্লেট যুক্ত করা হলে বাইকের মূল নকশা, বায়ুপ্রবাহ এবং চলন্ত অবস্থায় গতি ও সুরক্ষায় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
কারিগরি বিষয়াদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার লক্ষ্যে বিআরটিএ ইতোমধ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে বিআরটিএ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং দেশের প্রধান মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গঠিত কমিটিকে নম্বর প্লেটের মাপ, বসানোর সঠিক স্থান এবং এআই ক্যামেরায় এটি সহজে পাঠযোগ্য হবে কি না—তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিআরটিএর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখের কাছাকাছি। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ নতুন মোটরসাইকেল যুক্ত হয়। অন্যান্য গণপরিবহন বা চার চাকার যানবাহনে সামনে ও পেছনে দুটি প্লেট থাকলেও বাইকে এতদিন শুধু পেছনেই নম্বর প্লেট ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
বাইক উৎপাদনকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, রেডিয়েটর বা হেডলাইটের নিচে হুট করে নম্বর প্লেট বসালে ইঞ্জিনে স্বাভাবিক বাতাস চলাচলে বাঁধা তৈরি হয়ে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন হতে পারে। এছাড়া বাতাসে অতিরিক্ত বাধার কারণে উচ্চগতিতে বাইকের স্থায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পাশাপাশি এটি পুরোনো যানবাহনে বাধ্যতামূলক হবে নাকি কেবল নতুনগুলোর জন্য—তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও তাৎক্ষণিক ই-মামলা প্রদানে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ পিটিজেড ও এআই ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে। প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, নম্বর প্লেটের পাশাপাশি বিআরটিএর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি চিপ প্রযুক্তি আরও জোরদার করা গেলে খুব সহজেই গাড়ির পরিচিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ ও নির্দেশনার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

