স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে শাসনের জেরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ তুলে মাদ্রাসার ভেতরেই তাঁকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেওয়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। গণপিটুনিতে মারাত্মক জখম ও আহত ওই শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। আজ ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জুমার নামাজের ঠিক আগে স্থানীয় দত্তপাড়া নূরানী মাদ্রাসার ভেতরে এই মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
আহত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম আনিচুর রহমান (৩২)। তিনি যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় দত্তপাড়া নূরানী মাদ্রাসার একজন নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বিজ্ঞাপন
মাদ্রাসা ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে উক্ত মাদ্রাসার দুই শিশু ছাত্রী নিজেদের মধ্যে হঠাৎ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় শিক্ষক আনিচুর রহমান ক্লাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ছাত্রীদের শান্ত করতে শাসনের অংশ হিসেবে তাদের হালকা চড়-থাপ্পড় মারেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষ পরবর্তীতে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশুকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে মর্মে একটি স্পর্শকাতর অভিযোগ বা গুজব পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দেয়।
এই শ্লীলতাহানির অভিযোগ ও অপবাদকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় কিছু উত্তেজিত গ্রামবাসী আচমকা দত্তপাড়া নূরানী মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে শিক্ষক আনিচুর রহমানের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া শুরু করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উত্তেজিত গ্রামবাসীর হাত থেকে গুরুতর আহত শিক্ষক আনিচুর রহমানকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দত্তপাড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে; বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করেছে এবং চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসলেই কোনো শ্লীলতাহানি ঘটেছিল নাকি এটি পূর্বশত্রুতার জেরে ছড়ানো গুজব, তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে কোতোয়ালী থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।

