মোঃ মাসুদ রানা :
চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী দর্শনা পৌরসভায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও একের পর এক নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন এনেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. শাহিন আলম। দায়িত্ব পালনের মাত্র আট মাসের মাথায় পৌরসভার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সংকট নিরসনে তিনি গ্রহণ করেছেন একাধিক দৃশ্যমান ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
বিজ্ঞাপন
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মো. শাহিন আলম ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি সফলতার সাথে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং কয়েক দফায় জীবননগর উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে সর্বস্তরে সুনাম কুড়িয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
দর্শনার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার দীর্ঘদিনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের অচলাবস্থা দূর করে নতুন ওয়েব পোর্টাল চালু করেন তিনি। দর্শনা রেলগেট এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশদূষণকারী ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের পাশে একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান এবং বকেয়া ৬০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। তাছাড়া দুস্থ সাহায্য ও অনুদান খাতে বিতরণ করা হয়েছে তিন লক্ষাধিক টাকা।
পৌর অবকাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করা, রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনে আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন, মশক নিধন, টিকাদান কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একইসাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’-এ দর্শনা পৌরসভার ক্রীড়াবিদরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
একজন দক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চলে মাদক, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য, অবৈধ মাটি কাটা, সার ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক সফল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন শাহিন আলম। বিশেষ করে দীর্ঘ এক যুগ পর ছড়াংগা মাঠে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তাঁর প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যান্য সেবার পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলায় নামজারি (মিউটেশন) সূচকে দামুড়হুদা উপজেলা বর্তমানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সরকারি রাজস্ব আদায়ে কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদাহে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার পাশাপাশি সম্প্রতি কার্পাসডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে কয়েক বছর আগে বিতাড়িত ও বেদখল হওয়া এক অসহায় নারীর মাথা গোঁজার ঘর উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবনসমূহের নির্মাণ ও আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক মো. শাহিন আলম জানান, “কর্মঘণ্টা ও অর্পিত দায়িত্বের দিক থেকে দামুড়হুদা অদ্যাবধি আমার সবচেয়ে কর্মবহুল কর্মস্থল। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ববহ এ জনপদের সাধারণ মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সার্বিক উন্নয়নের একটি দৃশ্যমান ছাপ রেখে যাওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।” ছবি সংগৃহীত।


