জাকির হোসাইন তুষার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নে ‘রূপকল্প’ নামের একটি কথিত এনজিওর ভুয়া পরিচয় ও আকর্ষণীয় লোনের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে। প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ‘রূপকল্প’ নামক একটি নিবন্ধিত এনজিওর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিচয়ে নহাটা ও দীঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে আসেন। তাঁরা অতি অল্প সুদে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘মোটা অঙ্কের ঋণ’ (লোন) দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রলোভন দেখান। এ জন্য অগ্রিম সঞ্চয় ও জামানত বাবদ একেকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী লোন বা প্রতিশ্রুত সেবা না পেয়ে স্থানীয়রা প্রতারক চক্রটিকে চেপে ধরলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় ভুক্তভোগীরা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ওই এনজিওটি প্রতারণার সুবিধার্থে মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাউজানি এলাকার ‘হাজী মঞ্জিল’ নামক একটি ভবনের একটি রুম ভাড়া নিয়ে সাময়িকভাবে অফিস স্থাপন করেছিল। অতি সম্প্রতি গ্রাহকরা লোন ও জমা টাকা তুলতে ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন ঘরটিতে তালা ঝুলছে এবং প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের সব মোবাইল বন্ধ করে সশরীরে গা-ঢাকা দিয়েছে।
এ ঘটনায় নহাটা ও দীঘা ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভুয়া এনজিওর প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রতারক চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।
একই সাথে অভিযুক্তদের কোনো প্রকার সন্ধান বা তথ্য পেলে দ্রুত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।ছবি সংগৃহীত।


