কালীগঞ্জ সরকারি কলেজের পদে পুনর্বহাল অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান

কালীগঞ্জ সরকারি কলেজের পদে পুনর্বহাল অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান

মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

দীর্ঘ এক যুগের অন্যায় বরখাস্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্যাম্পাস ছাড়া হওয়ার অমানবিক চক্রান্ত পেরিয়ে অবশেষে নিজ কর্মস্থল ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে সসম্মানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখা থেকে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের অন্যায্য আদেশ প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত জারিকৃত আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির পর আজ তিনি নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জারিকৃত সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক তাঁকে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো।” উক্ত আদেশের কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, ঝিনাইদহ জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালে ড. মাহবুবুর রহমান পবিত্র হজব্রত পালন শেষে সুদূর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে জানতে পারেন, তাঁকে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে ও আজ্ঞাবহ স্থানীয় কুচক্রী মহল এই জঘন্য চক্রান্তটি পরিচালনা করে। পরবর্তীতে শাসকদলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করে তাঁকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ক্যাম্পাসে তাঁর প্রবেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ক্যাম্পাস ত্যাগ ও নির্যাতন কাণ্ডে সরাসরি নেতৃত্ব দেন পরবর্তীতে ভারতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ও নিহত হওয়া তৎকালীন বিতর্কিত এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার, সুব্রত কুমার, আবদুল মজিদ মণ্ডল, শরিফুল ইসলাম এবং যশোরের গোলাম রসূল।

দীর্ঘ ১২ বছরের কণ্টকাকীর্ণ ও কষ্টসাধ্য আইনি লড়াই শেষে সসম্মানে দাপ্তরিক চেয়ারে ফিরে আবেগপ্লুত ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি যখন পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলাম, ঠিক তখনই আমার অনুপস্থিতিতে সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর বছরের পর বছর আমাকে কলেজ থেকে দূরে রাখা হয়। তবে আমি ভেঙে পড়িনি; দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে লড়াই চালিয়ে গেছি এবং আজ আমার হারানো সম্মান ও প্রাপ্য পদ ফিরে পেয়েছি। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া এবং এই দীর্ঘ দুর্দিনের লড়াইয়ে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের সব গ্লানি ভুলে এখন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের সকল পেশার সচেতন মানুষকে সাথে নিয়ে কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে শিক্ষার আলোয় অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আমার প্রধান কাজ।”

এদিকে ১২ বছর পর জনপ্রিয় ও প্রবীণ অধ্যক্ষের এই ফিরে আসায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *