মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ উপজেলায় চলন্ত অবস্থায় সামনের চাকা খুলে গিয়ে ‘গড়াই পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় এ আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি কুষ্টিয়া থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘গড়াই পরিবহন’-এর একটি বাস (কুষ্টিয়া-ব-১১-০০৫৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বাসটি কেয়াবাগান এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে সামনের একটি চাকা খুলে আলাদা হয়ে যায়। এতে চালক মুহূর্তেই বাসের নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুতগতির বাসটি মহাসড়কের পাশে নিচু খাদে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বাসের সামনের গ্লাস চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং বডি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে ও আঘাত পেয়ে অন্তত ২০ জন যাত্রী রক্তাক্ত জখম হন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার দিপু বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত করেন। আহতদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর ছিল।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শিশির সানা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা প্রাথমিক দফায় আঘাতপ্রাপ্ত ৭ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আহতদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশের জখম মৃদু হওয়ায় তারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে শাবানা খাতুন (৩২) ও মাসুদ রানা (২৯) নামের দুজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেক আহত যাত্রী স্থানীয়ভাবে এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।ছবি সংগৃহীত।

