স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে, সেখানে তাঁদের ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। জবি, কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ নারকীয় হামলার অভিযোগ তুলেছেন আহত শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাকে কেন্দ্র করে প্রথম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। তা একপর্যায়ে মারাত্মক হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নিলে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে আহতদের চিকিৎসার জন্য পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অভিযোগ ওঠে, জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের একটি সশস্ত্র দল হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের প্রাঙ্গণে আবার হামলা চালায়।
হামলাকারীদের অতর্কিত আক্রমণে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। জরুরি বিভাগে হামলার ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ রোগী, তাঁদের স্বজন এবং চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণভয়ে হাসপাতালের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
এ সহিংস ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতা, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একাধিক সাংবাদিক এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা গুরুতর আহত হন।
ন্যক্কারজনক এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি সংগৃহীত।


