ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলা সদরের কোরাপাড়া এলাকায় এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত তরুণীর নাম শিখা (২২)। স্বজন ও স্থানীয় অধিবাসীদের জোরালো দাবি— বিয়ের প্রলোভনে বাড়িতে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে অভিযুক্ত যুবক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) রাতে কোরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় গ্রিল মিস্ত্রি মুকুলের বাসভবনের বন্ধ ঘর থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিখা সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং এক সন্তানের জননী। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মুকুল দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাসে আসার সময় শিখার সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শিখাকে কোরাপাড়ায় নিজের বাসায় নিয়ে আসে মুকুল। সেখানে বাসর ঘর সাজিয়ে দুদিন অবস্থান করার পর বিয়ে করা নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার রাতে লাশের শরীর থেকে ছেঁড়া জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়, যা পাশবিক নির্যাতন ও ধস্তাধস্তির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। তাছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্ত মুকুল। নিহতের মামা তরিকুল ইসলাম জানান, “মুকুল প্রথমে বলেছিল সে মেয়েকে চেনে না, অথচ তার নিজ ঘর থেকেই হাত-পা জখম ও ছেঁড়া কাপড়ে শিখার লাশ উদ্ধার হলো। পুলিশকে দেখে তার পালিয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে শিখাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”
এদিকে নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে মেয়ের সাথে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এভাবে ফাঁদে ফেলে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষের মোবাইল কললিস্ট (CDR) নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলেই এই রহস্যের মূল জট খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই রোকনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ছবি সংগৃহীত।

