খেয়াঘাট আছে, যাতায়াতের পথ নেই, দুর্ভোগে ৩ ইউনিয়নের মানুষ!

খেয়াঘাট আছে, যাতায়াতের পথ নেই, দুর্ভোগে ৩ ইউনিয়নের মানুষ!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেয়াঘাট এবং মাঝি ঠিকই আছেন, প্রতিদিন নিয়মিত যাত্রীও পারাপার হচ্ছে। তবে ঘাটে পৌঁছানোর মতো কোনো স্বাভাবিক হাঁটার পথ নেই। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় ঘাটসংলগ্ন রাস্তা, আর ভাটার সময়ে পুরো পথ রূপ নেয় হাঁটুসমান কাদায়। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন সেই কাদা মাড়িয়ে কিংবা বিকল্প উপায়ে অন্যের ফসলি জমির ওপর দিয়ে পার হতে হচ্ছে অন্তত কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।

বছরের প্রায় সাতটি মাস ধরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাঝের খেয়াঘাট’ ব্যবহারকারী হাজারো মানুষকে এই অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মিঠাগঞ্জ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও সাধারণ কৃষকদের কলাপাড়া সদরে পৌঁছানোর একমাত্র পথ এটি। টিয়াখালী ইউনিয়ন অংশে ঘাটের কাদা ও পানির সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। উত্তর পাড়ের বেড়িবাঁধ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি নিচু হওয়ায় সামান্য জোয়ারের পানিতেই তা তলিয়ে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

টিয়াখালী অংশের স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান সিকদার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই রাস্তাটির এমন করুণ অবস্থা দেখে আসছি। জোয়ার হলে সাধারণ মানুষের পারাপারের কোনো উপায় থাকে না।”

মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. নেছার উদ্দিন বলেন, “জোয়ারের সময় পোশাক গুটিয়ে ঘাটে নামতে হয়, যা নারী ও বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও বিপজ্জনক।”

একই ভোগান্তির কথা জানান মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা সিকদার। তিনি জানান, কলাপাড়া শহর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা যেন এক যুদ্ধ। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, স্থানীয় দুটি মাদ্রাসা ও একটি হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংযোগ সড়কটি দ্রুত উঁচু না করলে এই দুর্ভোগের সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিপূর্বে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে খেয়াঘাটের মাঝি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কাদা ও পানির কারণে অনেক সময় যাত্রীরা আসতে পারেন না, ফলে পুরো দিনই প্রায় অলস বসে থাকতে হয়।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, খেয়াঘাটের সংযোগ সড়কটি নিচু হওয়ার কারণে জোয়ারে প্লাবিত হয় এবং ভাটায় কাদা জমে। সমস্যা সমাধানে রাস্তাটি মাটি ভরাট করে উঁচু করা জরুরি। আগামী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি প্রতিবেদক।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *