মোঃ মাসুদ রানা কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
কৃষকের বুকের তাজা রক্ত জল করা স্বপ্নের ওপর বিষাক্ত অনুভূতির হিংস্র হানা দিয়েছে একদল অসাধু ব্যক্তি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত বৈরিতা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘাস পোড়ানোর ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিটিয়ে এক অসহায় কৃষকের প্রায় ২০ শতক জমির সোনালী ধান খেত সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার মথনপুর গ্রামের মাঠে নিজের হাড়ভাঙা খাটুনিতে বোনা চলতি মৌসুমের রোপিত ধান খেত তদারকি করতে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে কৃষক রনিক ইসলামের। তিনি দেখতে পান সবুজ সতেজ ধানের শিষ ও গাছ মুহূর্তেই শুকিয়ে ও পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন যে বিগত দিনের শত্রুতার জেরে একই এলাকার শুশান্ত ঘোষ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুলতান আহম্মেদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেখানে বিষাক্ত ঘাসমারা তরল ছিটান।
বিজ্ঞাপন
নিজের বছরের খাদ্যের একমাত্র সম্বলটুকু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই মর্মান্তিক বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তদের তোপের মুখে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বৃদ্ধ পিতা। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে বড় ধরনের ক্ষতি সাধনের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সামাজিক বিচারে কোনো সুবিচার না পেয়ে সুবিচারের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী কৃষক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত লিখিত নালিশ সূত্রে জানা গেছে যে দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রতিপক্ষের মূল অভিযুক্তরা অসাবধানতাবশত ও বাতাসের তোড়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটেছে বলে দাবি করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এটি নিছক দুর্ঘটনাই নয় বরং গভীর চক্রান্তের ফল।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত করে জানান যে বিষাক্ত ওষুধ ছিটিয়ে ফসল ধ্বংসের সংক্রান্ত একটি লিখিত ইস্তাহার হাতে এসেছে। অভিযোগের সঠিকতা নিরূপণে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

