কলাপাড়ায় আঘাত পেয়ে চিৎকার করায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষক

কলাপাড়ায় আঘাত পেয়ে চিৎকার করায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষক

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাঠদান কক্ষে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়ে ব্যথায় চিৎকার করায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার খবর পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিজ্ঞান বিভাগের পাঠদান কক্ষে এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষকের এমন অমানুষিক প্রহারে বাসায় ফেরার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আহত শিশু শিক্ষার্থীর নাম আরেফিন ছিদ্দিকি (১১)। সে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেনের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আহত শিশুটির পিতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলের বয়স মাত্র ১১ বছর। শ্রেণি কক্ষে পাঠদান চলাকালে আরেফিন ভুলবশত নিচে পড়ে যায় এবং পায়ে তীব্র ব্যথা পেয়ে জোরে কেঁদে ও চিৎকার করে ওঠে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাশেদ সাহেব কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই ঘরে ঢুকে বেত দিয়ে ছেলেকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। প্রহারের কারণে আরেফিনের শরীরের বিভিন্ন স্থান ফেটে রক্ত ঝরেছে এবং সমস্ত শরীরে কালশিটে ও ফোলা জখম হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে পরবর্তীতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ডেকে পাঠান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

আহত শিশুর সহপাঠীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, আরেফিন পড়ে গিয়ে পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে চিৎকার দিয়েছিল। কিন্তু রাশেদ স্যার কক্ষে ঢুকেই তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন; কোনো কারণ শোনার বা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করেননি।

এ ঘটনায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক রাশেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর স্ত্রী মোবাইল ফোন রিসিভ করে দাবি করেন, রাশেদ ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। ফলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের কার্যালয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।”

বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, “ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। ওই খণ্ডকালীন শিক্ষক তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।”

অন্যদিকে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।

আরো পড়ুন

আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা : ইলিশের খোঁজে সাগরে নামতে প্রস্তুত কলাপাড়ার জেলেরা

কলাপাড়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ সফল করতে প্রস্তুতিমূলক সভা

কুয়াকাটায় জামায়াত এমপির ‘ইস্তাম্বুল’সহ ৩ হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

কুয়াকাটায় ‘পশ্চিম খাজুরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নীলগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা : মাছের ঘের থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা পুত্রকে পিটিয়ে আহত

নারী কর্মীকে জুটাপেটা ও নির্যাতনের ঘটনায় নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

দেরিতে মোগলাই পৌঁছানোয় সহকারীকে মারধর নারী চিকিৎসকের

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *