স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সৌদি আরবে ফাস্টফুড দোকানে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, অতঃপর সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সালমান হোসেন (৩৩)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার মো. শহীদ শেখের ছেলে। সিআইডির মানব পাচার ইউনিট (টিএইচবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত চক্রটি ভুক্তভোগীকে ফাস্টফুড দোকানে কাজ দেওয়ার নাম করে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত বছরের ৭ জুন ভুক্তভোগী সৌদি আরবে পৌঁছালে তাকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে অভিযুক্ত সালমান হোসেন ও তার সহযোগীরা একটি বাসায় জিম্মি করে রাখে। সেখানে আকামা তৈরি করার অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ দাবি করে এবং নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে পালিয়ে একটি মরুভূমি এলাকায় আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে চলতি বছরের ২২ জুলাই দেশে ফেরত পাঠায়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে ঢাকা সাভার থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডির মানবপাচার শাখায় হস্তান্তরিত হলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মূল অভিযুক্ত সালমান হোসেনকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটির সাথে দেশে ও বিদেশে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং তারা আর কতজনকে এভাবে প্রতারিত করেছে, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সিআইডির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় প্রলোভনে না পড়ে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা আবশ্যক। বৈধ ও সরকারি নিয়ম অনুসরণ ছাড়া অর্থ কিংবা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে এবং সন্দেহজনক মানবপাচারকারীর বিষয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

