স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ অন্ধত্বে ভুগছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষই ছানিজনিত অন্ধত্বের শিকার, যা দেশের মোট অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশ। অথচ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানিজনিত অন্ধত্বের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে যশোর শহরতলির পুলেরহাটে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অরবিস’-এর সহযোগিতায় আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এই কর্মসূচিটির আয়োজন করে। এ বছর বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ছিল—‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কল্যাণে এখন খুব সহজেই ছানি অপারেশনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই চোখে যেকোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া আসন্ন আমন মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সময় ধানের শীষ বা অন্যান্য কৃষিকাজের উপকরণের আঘাতে কৃষকদের চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে কাজের সময় অবশ্যই নিরাপত্তা চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নজরুল ইসলাম খান এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাকিম রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আদ্-দ্বীন চক্ষু প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (আই অ্যান্ড এডুকেশন) মো. রবিউল হক।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।ছবি সংগৃহীত।
