স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৬
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানেরই অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গোপনে বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অনৈতিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদীর মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসার সাথে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ১৪ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এবং ছাত্রীটি বিয়ের দাবিতে ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলে শুরুতে শিক্ষক নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার গভীর রাতে তাদের গোপনে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই ঘটনা এলাকায় প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকমহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জানান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার পেছনের সত্যতা উদঘাটন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটির মূল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।
