সন্ধ্যায় অফিসে ঢুকে আ.লীগ ও শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা!

সন্ধ্যায় অফিসে ঢুকে আ.লীগ ও শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পাবনা সদর উপজেলায় হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং এক শ্রমিক দল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের অফিসে এ মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার ধর্মগ্রামের মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং একই উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন (৫০)। নিহত সালাম ওই পুষ্পপাড়া গরুর হাটের মূল ইজারাদার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ওলামা লীগের আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে নিহত রিপন বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দলের আতাইকুলা ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও তারা দুজন যৌথভাবে ওই হাটের ইজারা পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ সালাম ও রিপন পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং হাটের কাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ৭ থেকে ৮ জনের একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাঁদের দুজনকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রেহানুল ইসলাম বুলাল জোড়া খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত রিপন ইউনিয়ন শ্রমিক দলের পদে ছিলেন এবং নিহত সালাম সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, জোড়া খুনের খবরের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক সংক্রান্ত কোনো পূর্বশত্রুতা বা আক্রোশের জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, ঠিক কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *