৫-৬ জন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালককে পিটিয়ে পুলিশে দিল ক্ষুব্ধ জনতা

৫-৬ জন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালককে পিটিয়ে পুলিশে দিল ক্ষুব্ধ জনতা

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক অবুঝ আবাসিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও অনৈতিক যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে মো. ইব্রাহিম খান রিয়াদ নামের এক মাদরাসা পরিচালককে বেধড়ক মারধর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে মির্জাপুর উপজেলা সদরের শ্রীহরিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘আজিজুল কোরআন মডেল মাদরাসা’ প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

আটককৃত ইব্রাহিম খান রিয়াদ ওই মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই মাদরাসার অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আবাসিক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক ইব্রাহিম খান রিয়াদের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছিল। গত শুক্রবার এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ছুটি নিয়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পরিচালকের এই কুৎসিত অপকর্ম ও নির্যাতনের কথা কেঁদে কেঁদে খুলে বলে।

বিষয়টি জানার পরই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনেরা। ওই ছাত্রের অভিভাবকরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান সানু এবং স্থানীয় ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য জিয়ারত হোসেনকে জানান এবং প্রতিকার দাবি করেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের উপস্থিতিতে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে পরিচালকের অপরাধের বিবরণ শুনে উপস্থিত সর্বস্তরের জনতার মাঝে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত পরিচালক ইব্রাহিম খান রিয়াদকে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেন।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রক্তাক্ত ও অবরুদ্ধ অবস্থায় পরিচালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান সানু জানান, নির্যাতিত এক শিশুর পরিবার তাঁদের কাছে এসে বিষয়টি জানানোর পর সত্যতা অনুসন্ধানে মাদরাসায় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে এলাকাবাসীর মধ্যে রোষ ছড়িয়ে পড়লে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত পরিচালক ইব্রাহিম খান রিয়াদকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *