“যেখানে থাকার কথা রড, সেখানে মিললো বাঁশ”: ১০ কোটির সেতুতে দুদকের হানা

“যেখানে থাকার কথা রড, সেখানে মিললো বাঁশ”: ১০ কোটির সেতুতে দুদকের হানা

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই জালিয়াতির থলের বিড়াল বের করতে এবার মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে ব্যাপক অনিয়ম ও চরম দুর্নীতি দেখতে পান। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী যতটুকু রড ব্যবহার করার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অতি নগণ্য পরিমাণ রড দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন জানান, “সরজমিনে প্রাথমিক তদন্তেই জালিয়াতি ও দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা স্ল্যাব ও পিলার ভেঙে দেখেছি, সেখানে রডের চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানের রিপোর্ট আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমের কাছে পাঠানো হবে। তাদের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদক কার্যালয়কে অবহিত করা হবে।”

এদিকে, এই জালিয়াতির ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক ও আইনি অ্যাকশন শুরু হয়েছে । গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমের (৪৪) বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই মাইজখাড়া এলাকা থেকে রংপুরের পীরগাছার বাসিন্দা সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের এক নির্দেশে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করতে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ যৌথভাবে শুরু করে ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন’ ও ‘মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ’। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলেও বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে অন্ধকারের সুযোগে ঠিকাদারের লোকজন স্ল্যাবে রডের বদলে বাশের ফালি বসিয়ে ঢালাই শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা তা হাতেনাতে ধরে ফেলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *