স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম ব্যর্থতার ছবি ফুটে উঠেছে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব স্কুল থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের একজনও পাসের মুখ দেখতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন নামপরিচয়হীন ও নিম্নমানের মাধ্যমিক ও জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে:
- যশোর জেলা: মণিরামপুর চাঁনদুয়া সমাসকাটি গার্লস হাই স্কুল থেকে ৩ জন, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক গার্লস স্কুল থেকে ১ জন, শার্শার সারাতলা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুল থেকে ২ জন এবং মুক্তিযোদ্ধা জি. কে. জি. এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১ জন অংশ নিয়ে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
-
খুলনা জেলা: খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাই স্কুল থেকে ৪ জন এবং ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়।
-
বাগেরহাট জেলা: শরণখোলার ডি. এন. একতা গার্লস হাই স্কুল থেকে ২ জন অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি।
-
সাতক্ষীরা জেলা: নাইশা মাধ্যমিক স্কুল থেকে ৭ জন, আশাশুনির গোদারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, শ্যামনগরের সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং দেবহাটার বাবুরাবাদ ধাপুখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ ফেল করেছে।
এ বিষয়ে খুলনা ডুমুরিয়ার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার জানান, “চারজন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারা লেখাপড়ায় ভীষণ অমনযোগী ছিল এবং তাদের পরিবারও ছিল উদাসীন। শত চেষ্টা করেও তাদের পাস করানো সম্ভব হয়নি।”
এমন নজিরবিহীন প বিপর্যয়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী বলেন, “বিষয়টি বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এই ১১টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো কজ) দেওয়া হবে। তদন্তে শিক্ষকদের অবহেলা বা একাডেমিক দুর্বলতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতিও বাতিল করা হতে পারে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।

