রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ),
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলজুড়ে এক অভূতপূর্ব লংমার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সফর ও রাজপথের বিশাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা, অভূতপূর্ব প্রস্তুতি ও জোরালো সাংগঠনিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। যশোরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতা, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সুসংগঠিত দলীয় নেতাকর্মী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংগঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা কর্মসূচিটি আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এক বিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা ঘটে। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় গাড়িবহর যশোর ও ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬০০টি গাড়ির বিশাল কনভয় নিয়ে রওনা হলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শত শত নতুন যানবাহন যুক্ত হয়ে ঐতিহাসিক এই বহরটি বিশাল জনস্রোতে পরিণত হয়।
যশোর অঞ্চলে এই লংমার্চ সফল করতে এবং নেতৃত্ব দিতে অগ্রভাগে ছিলেন বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দায়িত্বশীল নেতারা। এর মধ্যে যশোর-১ আসনের মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৪ আসনের অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর-৫ আসনের অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ আসনের অধ্যাপক মোস্তার আলীর ব্যাপক সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উবায়দুল্লাহ হুসাইন ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ ইবনে খলিলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক তরুণ ও যুব শক্তির অংশ নেওয়ার বিষয়টি রাজপথে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ঝিনাইদহে লংমার্চের সাফল্য নিশ্চিত করতে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয় সর্বাত্মক প্রস্তুতি। ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর গণমাধ্যমকে জানান, এই রাজপথের কর্মসূচিকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলাজুড়ে সুসংগঠিত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান সাবেক সফল উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা আব্দুল হাই এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা মাঠপর্যায়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
দুই জেলার এই বিস্তৃত রাজনৈতিক ও বৈপ্লবিক তৎপরতা স্থানীয় রাজপথে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোড়ালো ঐক্যের শক্ত অবস্থানের স্পষ্ট জানান দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতাদের এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ কেবল দলীয় সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তবে এই সুবিশাল লংমার্চের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা পরবর্তী মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির ওপর নির্ভর করবে। ছবি সংগৃহীত।
