স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার বিপজ্জনক স্বপ্ন তাড়া করতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ১৫ জন বাংলাদেশি ও ৩২ জন মিশরীয় নাগরিক। ইঞ্জিন বিকল ও খাবার-পানিবিহীন অবস্থায় সাগরে প্রায় দুই দিন তিন রাত ভাসমান থাকার পর ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাঁদের উদ্ধার করে মিশরীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেয়।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত ১৫ বাংলাদেশি মিশরের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে জোরালো আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানান, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তারা কাজের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যান। পরবর্তীতে ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশের আসায় মানবপাচারকারী কিংবা লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়েন। জমিজমা বিক্রি করে একেকজন ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলে দেন পাচারকারীদের হাতে।
বিজ্ঞাপন
গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে কোনো ধরনের নেভিগেশন সুবিধা ছাড়াই সাধারণ একটি রাবারের নৌকায় ৪৭ জন যাত্রীকে লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পাচারকারীরা ৩৬ ঘণ্টায় পৌঁছানোর আশ্বাস দিলেও নেভিগেশন না থাকায় নৌকাটি পথ হারিয়ে মাঝসাগরে ঘুরতে থাকে। ৪৮ ঘণ্টার মাথায় জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ভাসতে থাকে নৌকাটি।
ভয়াবহ খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট, তীব্র রোদ ও সাগরের প্রতিকূল পরিবেশে কাটে দুই দিন তিন রাত। রাতে দূরবর্তী জাহাজের আলো দেখলে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সংকেত দেওয়ার আকুল চেষ্টা চালান তাঁরা। অবশেষে ডেনমার্কের ‘মায়েরস্ক’ (Maersk) নামক একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজের নজরে এলে তাঁদের উদ্ধার করে মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পোর্ট সাঈদে হেফাজতে থাকা ১৫ জন বাংলাদেশি হলেন— মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান; সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুলেমান মিয়া, মো. সেলিম হোসেন, মো. মেহেদী হাসান ও মো. মাসুম মিয়া; হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, মো. সারওয়ার হোসেন, জয় শেখ, আব্দুল আওয়াল চৌধুরী ও মো. শিহাব উদ্দিন; ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ; কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন; সিলেটের জয়নাল উদ্দিন এবং তুহিন মিয়া।
ঘটনা জানার পর কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন সরাসরি পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টার ও সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন। আটক বাংলাদেশিদের সার্বিক আইনি সহায়তা দিতে ও যাঁদের পাসপোর্ট নেই তাঁদের জন্য জরুরি ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত তাঁদের দেশে পাঠানো হবে। একই সাথে দালাল ও মাফিয়া চক্রের প্রলোভনে পড়ে এরূপ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে জীবন বাজি না রাখার জন্য দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

