আবাসিক হোটেলে ফ্যানের সাথে ঝুলছিল এএসআইয়ের লাশ, রক্তভেজা স্ত্রীর পাশে অক্ষত শিশু

আবাসিক হোটেলে ফ্যানের সাথে ঝুলছিল এএসআইয়ের লাশ, রক্তভেজা স্ত্রীর পাশে অক্ষত শিশু

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে কর্মরত আমিনুল ইসলাম (৩২) নামের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (২৪) আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় এবং তাঁদের ১০ মাস বয়সী শিশু কন্যাসন্তান ফাতিহাকে উদ্ধার করা হয়।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘হোটেল রিলেক্স’-এর ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত এএসআই আমিনুল ইসলাম উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে এএসআই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার একই উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হোটেল রেজিস্টার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে এএসআই আমিনুল ও তাঁর স্ত্রী ১০৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। পরে সোমবার সকাল সাড় ৯টা বেজে গেলেও কক্ষের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় ম্যানেজার সোহান গিয়ে দরজায় বারবার ধাক্কা দেন। দীর্ঘ সময় পর স্ত্রী তাহমিনা ভেতর থেকে খিল খুলে দিলে ফ্যানের সাথে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ এবং পুরো ঘরে রক্তের ছাপ দেখতে পান হোটেল কর্মীরা।

হোটেল ম্যানেজার সোহান জানান, “রবিবার দুপুরে রুম নেওয়ার পর বিকেলে ও রাতে তাঁরা বাইরে বের হয়েছিলেন। গভীর রাতে কোনো গোলযোগের শব্দ পাওয়া যায়নি। সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।”

খবর পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন জানান, “সংকটাপন্ন ও গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাহমিনা আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছি।”

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এএসআই আমিনুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে পাঠায়। অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে স্বজনদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে আঘাতের পর এএসআই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা উদঘাটনে বিস্তারিত ও নিবিড় তদন্ত চলছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *