মায়ের নিথর দেহ জড়িয়ে অবুঝ শিশুর বুকফাটা কান্না : কর্ণাটকে চরম নৃশংসতার শিকার তরুণী

মায়ের নিথর দেহ জড়িয়ে অবুঝ শিশুর বুকফাটা কান্না : কর্ণাটকে চরম নৃশংসতার শিকার তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

একটি নির্জন ও জনমানবহীন ফসলের মাঠে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন পঁচিশ বছরের এক তরুণী। আর তাঁর স্পন্দনহীন দেহের ওপর আছড়ে পড়ে একটানা কেঁদে চলেছে মাত্র দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান। অবুঝ এই শিশুকন্যার কান্না আর আকুতি যেন পুরো এলাকার পরিবেশকে ভারী করে তোলে।

চরম হৃদয়বিদারক এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রায়চুর জেলার সিন্ধনুর উপজেলার আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকায়।

নিহত ওই তরুণীর নাম স্নেহা (২৫)। তিনি পার্শ্ববর্তী আরএইচ ক্যাম্প-৪ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো এক অজ্ঞাত বা পরিচিত ঘাতক ভারী পাথর দিয়ে তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডল থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে দুষ্কৃতকারীরা রক্তাক্ত দেহের ওপরই তার ১৮ মাস বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মাঠে কাজ করতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা দূর থেকে শিশুটির আর্তনাদ শুনে এগিয়ে যান এবং রক্তের ওপর মা-মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন। সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় তরুণীর শরীরে তখনও সামান্য প্রাণবায়ু অবশিষ্ট রয়েছে। অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতরা হলেন— নিহত স্নেহার স্বামী অমিত এবং তাঁর কথিত প্রেমিক শুভম।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, চার বছর আগে অমিতের সঙ্গে স্নেহার বিয়ে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শুভম নামে এক যুবকের সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। এটি পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক তা নিশ্চিত হতে আটককৃত স্বামী ও প্রেমিককে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিন্ধনুর তালুক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *