বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাঞ্চল্যকর হারিচ আহম্মেদ হত্যা মামলার মূল বাদী ও নিহতের সন্তান বাবুল মিয়াকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় এ বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলা ও নিপীড়নের শিকার ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া জানান, গত ১৯ জুলাই তাঁর বাবা হারিচ আহম্মেদকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কাদা পানিতে চুবিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই ঘটনায় ২১ জুলাই তিনি বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা ও স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলাটি প্রত্যাহার করে আপস-ফয়সালা করার জন্য তাঁকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার দিন সকালে স্ত্রীর সঙ্গে অটোরিকশাযোগে কলাপাড়া আদালতে নির্ধারিত হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন বাবুল মিয়া। পথিমধ্যে টিয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাঁদের গতিপথ রোধ করে। এ সময় স্ত্রী সীমা বেগমের সামনেই অটোরিকশা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাবুলকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সটকে পড়ে।
পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় আদালত চত্বরে জিআরওর কাছে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
নিহতের স্ত্রী সীমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করার পর সেখানেও একদল সশস্ত্র লোক আমার স্বামীকে খুঁজতে থাকে। চরম প্রাণভয়ে কৌশলে স্বামীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করি। রাতে লুকিয়ে আবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। আমার শশুরের মতো আমার স্বামীকেও যেকোনো সময় হত্যা করা হতে পারে, আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।”
তবে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে মামলার প্রধান অভিযুক্ত জসীম খন্দকার জানান, ঘটনার সময় তিনি নিজ কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন, যার তথ্যপ্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে। তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন মৌখিক খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্তে মারামারির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী চাইলে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। ছবি প্রতিবেদক।
