ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার মোহময় ফাঁদ!

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার মোহময় ফাঁদ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের বাসায় গিয়ে কৌশলে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী এক সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ২:০০ ঘটিকায় সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি চৌকস আভিযানিক দল তাঁদের আটক করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা গ্রামের মোঃ চুনু মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) এবং একই এলাকার মৃত তাহের মিয়া সরদারের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, চক্রটি সামাজিক মাধ্যমে নিজস্ব ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করত। এতে জটিল ও দুরারোগ্য রোগমুক্তি এবং পারিবারিক নানা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লোভ দেখানো হতো। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাদেরকে বিভিন্ন অলৌকিক আশ্বাসে আশ্বস্ত করা হতো। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফ্ল্যাট বা বাসভবনে গিয়ে ভুয়া ঝাড়-ফুঁক, মন্ত্র পড়া ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের ভান করে গভীর আস্থা অর্জন করত চক্রের সদস্যরা।

একপর্যায়ে চিকিৎসার অত্যাবশ্যক অংশ হিসেবে বাসার সমস্ত সোনা-গয়না একসঙ্গে এক জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হতো। এরপর সেই স্বর্ণালংকার রুমালে মুড়িয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই বিশেষ পানি পুরো ঘরে ছিটানোর নানা ছলাকলা দেখানো হতো। এ সময় গৃহকর্তী ও ভুক্তভোগীদের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেওয়া বা নজর সরানোর সুযোগ নিয়ে নিমেষেই সোনা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিত চক্রটির সদস্যরা।

এমনই অভিনব ও প্রতারণামূলক কৌশলের শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী রাজধানীর শাহজাহানপুর (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০১, তারিখ-০২/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করার পর আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চক্রটিকে সনাক্ত করে।

তদন্তকারী আভিযানিক দল প্রযুক্তির ব্যবহারে চক্রটির অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সুনামগঞ্জের ছাতকের ফকিরটিলা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে জিয়াসমিনের দেওয়া চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই এলাকার সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

অভিযানকালে আসামি জিয়াসমিন আক্তারের নিজ হেফাজত থেকে আত্মসাৎকৃত ১টি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ ১টি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ২১.৮৩ গ্রাম ওজনের এই স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে গ্রেফতারকৃত উভয় আসামি প্রতারণার মূল ঘটনা ও প্রক্রিয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

ডিজিটাল তথ্য ভাণ্ডারের সাথে গঠিত হলো ত্রাণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কমিটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগের ঝটিকা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ : পুলিশের রাবার বুলেট

বন্ধুর ব্যবসার কারখানার মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ী রনির হাত-পা বাঁধা লাশ!

পিবিআইয়ের জালে সিরিয়াল কিলার হৃদয় :পরকীয়া বিরোধের জেরে ট্রিপল মার্ডার

এসবির জ্যেষ্ঠ এসআইকে পিটিয়ে হত্যা!

ফিশিং লিংকে ফোন হ্যাক : করে ৯ লাখ টাকা হাতানো প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

ইতিহাসে প্রথমবার উল্টো পথে চলায় মন্ত্রীর গাড়িকে পুলিশের মামলা!

এয়ারপোর্ট থেকে সাতক্ষীরার মানবপাচারকারী সিআইডির জালে

সারাদেশে যৌথ অভিযানে নামছে পুলিশের নতুন ‘স্পেশাল’ ইউনিট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *