মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় শিল্পী খাতুন (৩৫) নামের এক প্রসূতি গৃহবধূর করুণ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। প্রসূতির প্রাণহানি ঘটলেও চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে অলৌকিকভাবে নবজাতক শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বারোবাজার মোড় সংলগ্ন ওই বেসরকারি ক্লিনিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিল্পী খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়ার আলীর স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
স্বজনদের অভিযোগ ও বিবরণ অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় শিল্পী খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ভর্তিকালীন সময়ে তাঁর প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সার্বিক অবস্থা শতভাগ স্বাভাবিক ছিল। তবে স্বজনদের প্রশ্ন— সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ওটিতে নেওয়ার আগমুহূর্তে ঠিক কী ধরনের ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা করা হয়েছিল, যার কারণে একজন সুস্থ প্রসূতিকে প্রাণ হারাতে হলো?
ঘটনা প্রসঙ্গে নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ইসলাম হোসেন জানান, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে রোগী হঠাৎ বাথরুমে গেলে সেখানে তাঁর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুততম সময়ে তাঁকে ওটিতে নেওয়া হলে তিনি মারা যান; তবে সিজারের মাধ্যমে গর্ভস্থ সন্তানকে জীবিত বের করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ ফাতিমা আক্তার দাবি করেন, উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে শক বা আকস্মিক মারাত্মক জটিলতায় পড়েছিলেন রোগী। ওটিতে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যুর পরপরই পেটে থাকা শিশুটিকে অস্ত্রোপচার করে সফলভাবে বাঁচানো হয়। উক্ত অস্ত্রোপচারে অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন ডাঃ তানভিরুল ইসলাম।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিক অবগতি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


