নড়াইলে মাদ্রাসার লম্পট শিক্ষকের হাতে ৬ ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার!

নড়াইলে মাদ্রাসার লম্পট শিক্ষকের হাতে ৬ ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার!

নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা এলাকায় অবস্থিত তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসার অন্তত ছয়জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বারবার বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর চম্পট দেওয়া অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে (২৫) অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রত্যুষে গাজীপুর জেলার গাছা থানা এলাকায় এক গোপন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এই শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারকৃত মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি ওই তাফসীর উদ্দিন মাদরাসার হেফজ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষক ছিলেন।

নড়াইল সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে আট বছর বয়সী এক হেফজ শিক্ষার্থীর মা তার ছেলের পড়াশোনা ও শরীরের খোঁজ নিতে মাদরাসায় আসেন। এ সময় শিশুটি মায়ের বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আগের দিন অর্থাৎ ২৭ আগস্ট রাতে শিক্ষক মাহবুবুর রহমান কর্তৃক তাকে বলাৎকার করার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে।

মা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মাদরাসার অপর এক শিক্ষকের গোচরে আনেন। ওই শিক্ষক শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেয়। এ ঘটনার জের ধরে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীরা সাহস পেয়ে এগিয়ে আসে এবং একে একে আরও পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী একই শিক্ষকের হাতে চরম যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ করে।

পাপকর্ম উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ওই দিনই (২৮ আগস্ট) কৌশলে মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে নির্যাতিত এক অবুঝ শিশুর মা বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার ইন্সপেক্টর অজয় কুমার কুন্ডু জানান, “মামলা রুজুর পর অভিযুক্ত আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনসহ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *