নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল সিকদার রবিকে (৩৭) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির পাশাপাশি তাঁকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ ছামিদুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সময়ে—মাত্র ৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো। রায় শোনার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রবিউল সিকদার রবিকে আদালত কক্ষে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। অন্যদিকে নিহত জান্নাতুল মাওয়া স্থানীয় দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত নিহত শিশু জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবেগপ্লুত হয়ে তাঁরা এই ফাঁসির আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
মামলার বিবরণী ও রায় প্রসঙ্গে নড়াইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু জানান, গত ৪ আগস্ট মাত্র ১১ কার্যদিবসের মাথায় নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুণ্ডু আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়ে মাত্র ৯ কার্যদিবসে রায় ঘোষিত হলো। তিনি আরও জানান, আসামিপক্ষে নিজস্ব কোনো আইনজীবী না থাকায় সরকারি ‘লিগ্যাল এইড’ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করে মামলার আইনি সমতা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ২০২৬ বিকেলে শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে কৌশলে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রতিবেশি ও সম্পর্কে ফুফাতো ভাই রবিউল। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির বাবা বাজার থেকে তাকে নিয়ে ঘরে ফেরেন। মা লাবনী খানম নুডুলস রান্না করে মেয়েকে ডাকতে গিয়ে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিবেশি রবির টিনশেড ঘরের খাটের ওপর অবচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই আসামি রবি পালিয়ে গেলেও পরদিন ২১ জুলাই সকালে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিনই নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত ও এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রবি অত্যন্ত লম্পট ও দুশ্চরিত্র প্রকৃতির লোক। চরিত্রহীনতার কারণেই ইতিপূর্বে তাঁর দুই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যায়।
সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডিএনএ প্রতিবেদন ও যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আজ এ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। ছবি সংগৃহীত।

