স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে মসজিদের ইমাম ও খাদেমের সরকারি সম্মানী ভাতার তালিকা প্রণয়নে মারাত্মক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতাকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামাল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লা।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের দীর্ঘদিনের নিয়মিত ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান ও খাদেম আব্দুল রাজ্জাকের নাম জালিয়াতি করে বাদ দেওয়া হয়। সরকারি সম্মানী ভাতার তালিকায় আসল ইমামের জায়গায় মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও স্থানীয় জামায়াত নেতা তবিবুর রহমান এবং খাদেমের জায়গায় জামায়াত নেতা আব্দুল মুতালেব মোল্লার নাম অন্তর্ভুক্ত করে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মুসল্লিরা প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তরা তালিকায় কোনো পরিবর্তন না এনে তা পুনরায় জমা দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দৃষ্টিগোচর হয়।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা জামায়াতের তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা উন্মোচিত হয়। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগে দুই নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাইদুর রহমান সাঈদ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক মর্যাদা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্তদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

