দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন আলো

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন আলো

শহিদ জয় :
দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ)। বিশেষায়িত এই ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৩৩টি নতুন রাজস্বখাতভুক্ত পদ সৃজনে সম্মতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সোমবার যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি পদ সৃজন সংক্রান্ত সরকারি চিঠিও প্রকাশ করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সওব্য-১০ শাখা থেকে জারি করা স্মারক অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ আগস্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউর জন্য ২০টি স্থায়ী এবং বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে ১৩টিসহ মোট ৩৩টি পদ সৃজনে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত ক্যাডার ও অন্যান্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) — ০১টি

  • সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) — ০১টি

  • জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) — ০২টি

  • জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) — ০১টি

  • সহকারী রেজিস্টার — ০২টি

  • এনেস্থেটিস্ট — ০১টি

  • মেডিকেল অফিসার — ১২টি

  • নার্সিং সুপারভাইজার — ০১টি

  • মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) — ০২টি

  • মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফী) — ০১টি

  • ফার্মাসিস্ট (ডিপ্লোমা) — ০১টি

  • কম্পিউটার অপারেটর — ০২টি

  • পরিসংখ্যান কর্মকর্তা — ০১টি

  • স্টোর কিপার — ০১টি

  • ফার্মেসি সহকারী — ০১টি

  • অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক — ০১টি

  • টিকিট ক্লার্ক — ০১টি

  • রিসেপশনিস্ট/অভ্যর্থনাকারী — ০১টি

এছাড়া সিসিইউর প্রয়োজনীয় সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল থেকে সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালে উদ্বোধন, চালু হয়নি ১৯ বছরেও
২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পর ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর জনবল ছাড়াই ইউনিটটির উদ্বোধন করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন সেটি কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
এ সময়ের মধ্যে ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের অনেকগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ সরকারি হাসপাতালে জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর সিসিইউটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগে নতুন করে গতি আসে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পত্রে বলা হয়েছে, পদ সৃজনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি, বেতনস্কেল ভেটিং, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ এবং ক্যাডার পদ স্থায়ীভাবে সৃজনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় বিধি অনুসরণ করতে হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিসিইউ চালুর উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছে। এই ইউনিট চালু হলে শুধু যশোর নয়, আশপাশের জেলার মানুষও উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৩টি পদ সৃজনের মাধ্যমে সিসিইউ চালুর প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেল। ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যশোরসহ খুলনা বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হৃদরোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। ছবি সংগৃহীত।
আরো পড়ুন

সকলের সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে শিশু ফারহানের প্রাণ

পদ হারালেন তিন ব্যাংকের এমডি

বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে খুলনার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আখের দর বৃদ্ধিতে স্বস্তি, মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে শুভ রোপণ মৌসুমের পথচলা

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে-কালীগঞ্জে রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগকে ফেরাতেই জামায়াত এনসিপির লং মার্চের ঘোষনা

প্রেম, ১৬ মাসের সংসার এবং শেষমেশ ধর্ষণ মামলা!

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে নজরুলের বিকল্প নেই- কোটচাঁদপুরে এমপি মতিয়ার রহমান

জেলা পরিষদ প্রশাসকের ২ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *