সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সাথে বারবার অসংবেদনশীল আচরণ, দূরভিসন্ধিমূলক শাসানো এবং যেকোনো বক্তব্যে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের অপেশাদার ও অসহযোগিতামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জরুরি প্রতিবাদ সভা করেছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাহী কমিটির সভায় জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের এমন কর্মকাণ্ডকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, জেলা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া এক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে আত্মগোপনে থেকে কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নিজের জমি সংক্রান্ত মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে তথ্য চাইতে সম্প্রতি ডিসি কার্যালয়ে যান এক বেসরকারি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসকের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্রই চটে যান জেলা প্রশাসক। তিনি কোনো উত্তর তো দেনইনি, উল্টো জেলা কৃষি অফিসারের দুর্নীতির প্রতিবেদন করা নিয়ে ওই সাংবাদিককে চরমভাবে ভর্ৎসনা ও শাসাতে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার জোরপূর্বক সাংবাদিকের সাথে থাকা ক্যামেরাপার্সনের ক্যামেরা পরীক্ষা করেন, যা অত্যন্ত নজিরবিহীন এবং অপমানজনক।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, জেলার নানা অনিয়ম, ক্লিনিকগুলোতে মোবাইল কোর্টের জরিমানা কিংবা সাধারণ যেকোনো প্রশাসনিক তথ্যের জন্য ফোন করা হলে জেলা প্রশাসক ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত ক্ষেপে যান। বক্তব্য দেওয়া তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না দাবি করে অনেক সময় ফোন কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আগের মতো সুসম্পর্ক ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলতে গেলে সিনিয়র সাংবাদিকদেরও অপদস্থ হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের এই একক ও রূঢ় আচরণের শিকার কেবল গণমাধ্যমকর্মীরাই নন, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও সম্প্রতি তার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অতি সম্প্রতি এক সরকারি অনুষ্ঠানমঞ্চে জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, জেলা জামায়াতের আমীরসহ সমস্ত নেতৃবৃন্দ একযোগে সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন।
প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভাপতি জানান, সাতক্ষীরায় ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করা কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তারা এমন অসহযোগিতা পাননি। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার যেখানে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সেখানে রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধির মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া কিংবা চড়াও হওয়া সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের আচরণে পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামাজিক ও পেশাগত কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। ছবি সংগৃহীত।
