সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদর থানার হাজতে রাখা নিষিদ্ধঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারণকৃত একটি ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার জেরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে থানাটির ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও এনিভা খাতুনকেও তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরার সুলতানপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের চার জ্যেষ্ঠ নেতাকে পুলিশ আটক করে। যাদের মধ্যে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, স্থানীয় নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক প্রধান শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভন।
অভিযোগ ওঠে, পুলিশের বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি থানা হাজতে থাকা ওই আসামিদের সাথে দেখা করার সুযোগ পান। এ সময় জনৈক এক ব্যক্তি নিজের মোবাইলে তাঁতী লীগ নেতা আলমগীর হোসেনের ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করেন, যেখানে ওই নেতা নিজের গ্রেপ্তারকে অহেতুক দাবি করে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান উচ্চারণ করেন। পরবর্তীতে ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে সর্বস্তরে ব্যপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পুলিশ সদর ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, ওসি মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। কদিন আগে জেলা ছাত্রদলও তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। সবশেষ থানা হাজতের ভেতরে আসামিদের এমন বেপরোয়া ভিডিও ধারণের ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাহারের নির্দেশ আসে।
তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই বদলির সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সম্পর্ক নেই। তাদের সরিয়ে নেওয়া নিয়মিত দাপ্তরিক রুটিন প্রক্রিয়ারই অংশ। ছবি সংগৃহীত।


