সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার (JICA) অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, সন্ত্রাসী হামলা ও নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা তথা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে প্রকাশ, জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে আসামীরা জামিনের সওয়াল-জবাব করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পবিত্র কুমার জানান, আসামিরা জামিনে মুক্ত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মেগা প্রকল্পের কাজ চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশানুযায়ী জামিনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় তাঁরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আকুতি জানিয়েছিলেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৫ মে রাতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আর-রাদ করপোরেশন’-এর আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, বাধা প্রদান ও দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছিল।
তবে নিজের ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মনগড়া উল্লেখ করে হাজী মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এদিকে, আজ বিচারকাজ শেষে আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে নজরুল ইসলামের ছবি তুলতে গেলে উপস্থিত কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন তাঁর ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন আছাড় দিয়ে ফেলে দেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছবি সংগৃহীত।

