মো: মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় গরু চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে হাবিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন হোসেন নামের অপর একজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহত হাবিবের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার রাতে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ২ থেকে ৩ শত অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অন্যদিকে, গরু চুরির অভিযোগে বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন এলাকায় গরু চুরি সন্দেহে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হাবিবের মৃত্যু হয় এবং সুমন গুরুতর আহত হন। আহত সুমন যশোরের আরাপপুর এলাকার মৃত আইয়ুব হোসেনের ছেলে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি হয়। চুরির বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা রাতে অনুসন্ধানে নামেন। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে পিরোজপুর বটতলা এলাকা থেকে হাবিব ও সুমনকে পাকড়াও করে বাদুরগাছা গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উত্তেজিত জনতা তাদের এলোপাতাড়ি গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই হাবিব হোসেন মারা যান এবং সুমন মারাত্মকভাবে আহত হন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত সুমনের ভাই অজ্ঞাতনামা ৩ শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামি করে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন এবং গরুর মালিকও একটি চুরি সংক্রান্ত মামলা করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি এখনো কোনো মামলা দায়ের না করা হলেও তারা থানা পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
ওসি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সম্পূর্ণ ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


