নিজস্ব প্রতিবেদক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র স্বাক্ষর জাল এবং স্ক্যান কপি ব্যবহার করে ভূয়া মিউটিশন (নামজারি) জালিয়াতির অভিযোগে কে. এম. প্রিন্স (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আটককৃত প্রিন্স কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দলিল লেখকের সহকারী (মুহুরি)।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ‘ম্যাকটেন হোল্ডিং লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি আবাসন কোম্পানীর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শাম্মী আক্তারের সরাসরি মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ সূত্রে ভুক্তভোগী শাম্মী আক্তার জানান, প্রায় তিন মাস আগে তিনি ৫৬ নম্বর জেএল খাজুরা মৌজার ৭টি জমির দলিলের মিউটিশন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চুক্তি অনুযায়ী টাকা প্রিন্সের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে প্রিন্স ২টি দলিলের মিউটিশন কপি সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে শাম্মী আক্তারের হাতে তুলে দেন। তবে খতিয়ানের কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে সরকারি ডাটাবেজে সার্চ দিলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং দেখা যায় মিউটিশন দুটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, খতিয়ানে কলাপাড়ার এসিল্যান্ডের স্বাক্ষরের ডিজিটাল স্ক্যান কপি বসিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ দুপুরে তিনি কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেন এবং পুলিশ ডেকে প্রিন্সকে হাতেনাতে ধরিয়ে দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রের কারণে কুয়াকাটা ও কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমার দপ্তরে এ পর্যন্ত অন্তত ২৭টি ভূয়া মিউটিশন ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এ ধরনের প্রতারণা ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৪ ও ৫ ধারায় মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব ভূমি দস্যু ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
কলাপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত দলিল লেখকের সহকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতি ও ভূমি অপরাধ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছবি প্রতিবেদক।
