স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ৪৫ দিনের এক নবজাতক শিশুকে কোলে নিয়ে অত্যন্ত চতুর ও অভিনব কৌশলে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকিয়ে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাচারকালে স্বামী ও স্ত্রীসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, বগুড়া।
গতকাল ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেলে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন নয়মাইল জামালপুর এলাকাস্থ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে জনৈক মো. ইউসুফ এর বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার ওপর এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—মোছা. সারমিন খানম (২৫), পিতা মো. জাফর সরদার, মাতা মোছা. রেখা খানম, স্বামী সোহাগ মৃধা, সাং দোগাছী, ডাকঘর চারনারানদিয়া, ইউপি পাচুড়িয়া, থানা আলফাডাঙ্গা, জেলা ফরিদপুর এবং তাঁর স্বামী একাধিক মাদক মামলার অভিযুক্ত আসামি সোহাগ মৃধা (৩১), পিতা মো. লুৎফর রহমান ওরফে রুস্তম মৃধা, মাতা সাজেদা বেগম, স্থায়ী সাং আড়পাড়া, ডাকঘর শিরগ্রাম, ইউপি বানা, থানা আলফাডাঙ্গা, জেলা ফরিদপুর। বর্তমান উভয়ই ঢাকার মিরপুর-০১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী থানাধীন মধ্যপাইকারপাড়া আহম্মদ নগর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ডিএনসি বগুড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তর জানতে পারে যে, ৪৫ দিনের একটি নবজাতক শিশুকে সামনে রেখে অত্যন্ত সুকৌশলে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকিয়ে মাদকের একটি বড় চালান পাচার করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় এবং নেতৃত্বে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী আভিযানিক দল শাজাহানপুর থানাধীন নয়মাইল জামালপুর এলাকায় অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে ঢাকা হতে বগুড়াগামী ‘আর কে ট্রাভেলস্’ নামক যাত্রীবাহী কোচে (রেজি নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৯৫) তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির এফ-১ ও এফ-২ সিটে টিকিটবিহীন অবস্থায় বসা ওই যাত্রীদ্বয়ের দেহ তল্লাশি করে ১ নম্বর আসামি সারমিন খানমের উভয় পায়ের হাঁটুর নিচে বিশেষভাবে আটকানো অ্যাংলেট থেকে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের বিবরণ অনুযায়ী— ১ নং আসামির ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে আটকানো কালো স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ২০টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি প্যাকেটে প্রতিটিতে ২০০ পিস করে মোট ৪০০০ পিস এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে আটকানো ১৯টি প্যাকেটে প্রতিটিতে ২০০ পিস করে মোট ৩৮০০ পিসসহ সর্বমোট ৭ হাজার ৮০০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ডিজিটাল কিচেন সেলের মাধ্যমে পরিমাপ করে এই মাদকের মোট ওজন ৭ শত ৮০ গ্রাম পাওয়া যায়। এছাড়াও মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ভিভো ওয়াই-১৫৫ এবং অপো এ-৩১ মডেলের দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং দুটি সাদা রঙের অ্যাংলেট জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬(১) সারণির ক্রমিক ৯(গ), ৪১ ও ২৬(১) ধারায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
